রাজনীতিসারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন ছাত্রদল নেতা আল আমিন শান্তর বিচার চেয়ে

মুক্তমন রিপোর্ট:মোঃ আরিফ হোসেন

বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বিমানবন্দর থানা শাখার নেতা রাসেল সরকারের জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্ত এখন রাজধানীর বৃহত্তর উত্তরার ত্রাসে পরিণত হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে তাঁর নাম জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আল আমিন শান্ত একের পর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পর আরও বেপরোয়া হয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। শুধু দিনে না রাতেও দক্ষিণখান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে চাঁদা দিতে হয় আল আমিনকে।

বিমানবন্দরের ডিএল তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুট করায় গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সরকারি মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেলসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে মারধর করায় দক্ষিণখান থানায় ৪ এপ্রিল আরেকটি মামলা হয়েছে।

একের পর এক সংগঠনবিরোধী কার্যকালাপে জড়িত হওয়ার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংগঠনের একটি মহলের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্ত। পরপর দুই থানায় মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত করেনি ছাত্রদল। জবাবদিতিতার আওতায় আনা হয়নি তাকে। এমনকি কোনও কারণ দর্শানোর নোটিস পর্যন্ত দেওয়া হয় নি। এ নিয়ে এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর খুঁটির জোর কোথায়? কারা তাকে আশ্রয় – প্রশ্রয় দিচ্ছে?

বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর অপকর্মের পেছনে শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করছে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার আস্কারা পেয়েই এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে আল আমিন হোসেন শান্ত। যখনই আল আমিন হোসেন শান্ত অন্যায় করে তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিমানবন্দরের তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে টাকা লুটের ঘটনায় যদি ছাত্রদল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে তাঁর হাতে যুবদল নেতাদের মার খেতে হতো না। সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে আল আমিন শান্তর ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, জানতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব ভাই এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। পেট্রোল পাম্পের ঘটনায় আল আমিনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন।

বিষয়টিতে তাদের আন্তরিকতায় বুঝেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল তখন ব্যবস্থা নেয়নি। পেট্রোল পাম্পে হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আজ হয়তো নিজ দলের কর্মীদের রক্তাক্ত হত না। শান্তর অন্তত দুটি ঘটনায় ছাত্রদল এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

দক্ষিণখান থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করি, দক্ষিণখান থানাধীন হলান এলাকায় রাস্তার সুয়ারেজ লাইনের (ড্রেন) উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য মাটি খোঁড়া হয়। খনন করা মাটি রাস্তার পাশে ঢিবি করে রাখা ছিল। এসব সরকারি মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিল আল আমিন। পাশের রাস্তায় গর্ত থাকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে আল আমিনকে কিছু মাটি ওই রাস্তায় দিতে বলি। কিন্তু আল আমিন রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আল আমিন ও তাঁর লোকজন বাঁশের লাঠিসোটা, ইট, ধারালো ছুরি, ধারালো চাপাতি, লোহার রড নিয়ে আমার ওপর হামলা করে যার একটি ভিডিও ফুটেজও আমরা পরবর্তীত সংগ্রহ করি।

আল আমিন ও তাঁর লোকজনের হামলায় আমি গুরুতর জখম হই। আমাকে বাঁচাতে ভাতিজা মো. সাব্বির হোসেন রাজু ও আমার বন্ধু আবরারুল হক জুয়েল এগিয়ে আসে। শান্তের লোকজন ভাতিজা রাজুকে জাপটে ধরে চাপাতি দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে রাজু চিৎকার করে। তার চিৎকার শুনে এলাকার ছোট ভাই সাব্বির ইসলাম কাউসার, রবিউল, রানাসহ কয়েকজন চলে আসে। তাদেরকেও মারধর করা হয়। স্থানীয়রা উপস্থিত হলে আল আমিন ও তার লোকজন পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-২ এলাকায় অবস্থিত ডিএল ফিলিং স্টেশনে একটি মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে স্টেশনের কর্মচারী মো. রাকিবকে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে স্টেশনের আরেক কর্মচারী ইলিয়াসকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা আহত হন।

এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে বাদী আব্দুল বাসারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাই বর্তমান সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি রক্ষায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর মর্জি কামনা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button