সারাদেশ

নদীর বুকে স্টিমারে বৈশাখ উদযাপন!

স্টিমার পিএস মাহসুদে বৈশাখ উদযাপন, ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর সেই উৎসব যখন নদীর বুকে ভাসমান এক ঐতিহাসিক স্টিমারে উদযাপিত হয়, তখন তা পায় ভিন্ন মাত্রা। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদের ডেকে দিনব্যাপী বর্ণিল বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় ‘পর্যটন বিচিত্রা ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’।

ঐতিহ্যের স্টিমারে নস্টালজিক যাত্রা

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সদরঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে স্টিমারটি। পানিতে ঘুরতে থাকা বিশাল চাকা আর পুরনো কাঠামো যাত্রীদের ফিরিয়ে নেয় অতীতের নস্টালজিক সময়ে।

একসময় নদীপথের রাজা হিসেবে পরিচিত এই স্টিমার এখনও বহন করছে বাঙালির ঐতিহ্যের গৌরব।

বৈশাখী সাজে স্টিমার

স্টিমারটি সাজানো হয় বৈশাখী মোটিফে—বাঘ, সিংহ, ঘুড়ি ও নানা রঙিন নকশায়। এতে ফুটে ওঠে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির প্রাণবন্ত রূপ।

পান্তা-ইলিশে ভরপুর মধ্যাহ্নভোজ

যাত্রার শুরুতে পরিবেশন করা হয় সকালের নাস্তা। পরে চাঁদপুরের কাছে তিন নদীর মোহনায় নোঙর করে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজের।

মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ ভাজা, গরম ভাত, আলু ভর্তা, ডাল, মাংস এবং শেষপাতে দই—যা যাত্রীদের কাছে এনে দেয় গ্রামবাংলার স্বাদ।

গান, খেলা আর গ্রামীণ আনন্দ

পুরো যাত্রাজুড়ে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পীর গান ও পরিবেশনায় স্টিমারের ডেক পরিণত হয় ভাসমান মঞ্চে।

এছাড়া মেহেদি আঁকা, লুডু, ক্যারাম খেলা এবং বিকেলে মোয়া-বাতাসাসহ ঐতিহ্যবাহী নাস্তার আয়োজন উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডে সেরা ১০

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘পর্যটন বিচিত্রা ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’। দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা তুলে ধরতে প্রায় ৫৫০ জন আলোকচিত্রী অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায়
🥇 প্রথম: তানভীর অনিক (‘এ ম্যাজিকাল উইন্টার’)
🥈 দ্বিতীয়: প্রকাশ মজুমদার (‘এ ফগি উইন্টার মর্নিং’)
🥉 তৃতীয়: কিংশুক পার্থ (‘ফিশিং লাভার’)

এছাড়া সেরা ১০-এ স্থান পান নাফিস আমিন, নয়ন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম, জিএম রেজানুল হক, জায়ান খান, বিপুল আহমেদ ও মোহাম্মাদ তারিক হাসান।

পুরস্কার ও সম্মাননা

বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে যথাক্রমে ১০ হাজার, ৭ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button