মুক্তমন রিপোর্ট : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের বিভিন্ন পদে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৮৪ চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর চাকরিতে যোগ দেবেন। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন এবং ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এরই মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও দপ্তরে জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪টি। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদই শূন্য, যা মোট অনুমোদিত জনবলের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রবাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
এর আগে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছিল।
এদিকে মেডিকেল শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১১ থেকে ২০ গ্রেডের ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে ১৭টি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে চারটি ক্যাটাগরিতে ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের সর্বত্র শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলা হয়, যাদের ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারে স্বাস্থ্যকে মানুষের বিশেষ সুবিধা নয়, বরং মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে।