মুক্তমন রিপোর্ট : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা যখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস নেতাদের দুই দিনের সম্মেলন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশের সময় শনিবার ব্রিকসের নেতারা বৈঠকে বসেছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ইতিবাচক’ ও ‘অর্থবহ’ আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চীন জানিয়েছে, মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অন্যান্য ব্রিকস দেশের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে ১১ সদস্যের সম্প্রসারিত জোটের নেতারা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ দেশ—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি বর্তমানে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জোটটির সদস্য।
সম্মেলনের প্রথম দিনে সদস্য দেশগুলোর জন্য ‘Inclusive Global Governance and Strengthening Multilateralism’ শীর্ষক একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া নেতারা ভারত ইনোভেটস প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নিচ্ছেন।
ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
ব্রিকস তাদের কার্যক্রমের আওতায় অংশীদার দেশগুলোকেও যুক্ত করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।
অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্ত নাদাইশিমিয়ে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ কুচকারভ রয়েছেন।
এ ছাড়া থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও, কিউবার প্রধানমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিলা, বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম রিজেনকভ, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেতকিন এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুললতিফ বিন রশিদ আল জাইয়ানি অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability: Shaping the Future for Inclusive Global Growth’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় ব্রিকস নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিকসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জোটের ১১ সদস্য দেশ বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।
২০২৫ সালে ব্রিকসের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে।
Muktomon/TA