মুক্তমন রিপোর্ট : মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ফাতিমা ইজ্জাহরার দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (PAM) ৩৯৫ আসনের মধ্যে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির নেই। ফলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে PAM-কে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এক টেলিভিশন ভাষণে ফাতিমা ইজ্জাহরা বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি এটিকে শুধু নিজের নয়, দেশের নারীদের জন্যও গর্বের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার গঠনের কাজ শুরু করার আগে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে। এরপর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
কে এই ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি?
ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি একজন আইনজীবী ও রাজনীতিক। ১৯৭৬ সালে মরক্কোর রেহমানা প্রদেশে তার জন্ম। তার বাবা আবদেলরহমান এল মানসুরি মারাকেশের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
ফাতিমার শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ফ্রান্সে। দেশে ফিরে তিনি আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন।
২০০৮ সালে তিনি PAM-এ যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হয়ে শহরটির প্রথম নারী মেয়র হওয়ার রেকর্ড গড়েন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর কিছু সময় জাতীয় রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে আড়ালে থাকার পর ২০২১ সালে তিনি মরক্কোর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুশের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে আবাসনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।
জোট সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও PAM এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। ফলে ফাতিমা ইজ্জাহরাকে অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠন করতে হবে।
মরক্কোর রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হলেও রাজা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়ে ব্যাপক সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখেন। নতুন সরকারের সামনে তাই জোট গঠন, অর্থনীতি ও জনসেবার পাশাপাশি রাজপ্রাসাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরির নিয়োগ মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সূত্র: এএফপি
Muktomon/TA