ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা, ৪ মাসে ETC ও অস্থায়ী বাস টার্মিনাল

ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা, ৪ মাসে ETC ও অস্থায়ী বাস টার্মিনাল

মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের জানান।

১. টোল প্লাজায় চালু হবে ETC

এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ETC ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে টোল আদায় আরও দ্রুত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

এ জন্য একটি অ্যাপ উন্নয়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

২. যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের যানজট নিরসন

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর আগে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, সেটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুয়েটকে বিদ্যমান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ নতুন প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

৩. ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। টার্মিনালটি স্থানান্তর করা হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।

স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে সময় লাগায় ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৪. সম্প্রসারণ হবে গাবতলী বাস টার্মিনাল

গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫. কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট যাবে গাবতলীতে

রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৬. সচিবালয় এলাকায় বাড়ানো হবে পার্কিং সুবিধা

সচিবালয়ের চারপাশের যানজট কমাতে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭. অটোরিকশা ও অনুমোদনহীন বাস নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচলকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।