বৃহত্তর উত্তরা

নিকুঞ্জ-২ মাঠ দখলের চেষ্টা ব্যর্থ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মেলামুক্ত, খেলায় ফিরল তরুণরা

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে বৈশাখী মেলা আয়োজনের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত জনমত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকার কিশোর-তরুণ ও বাসিন্দাদের মাঝে।

প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ মেলা কার্যক্রম

গত কয়েকদিন ধরে মাঠ দখল করে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। অভিযান চালিয়ে মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী কাঠামো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মেলা আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে নিকুঞ্জ-২ কল্যাণ সমিতিও তাদের দেওয়া অনুমতিপত্র বাতিল করে।

অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমোদন ছাড়া একটি আবাসিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।

কমিটি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক

জানা গেছে, নিকুঞ্জ-২ কল্যাণ সমিতি বর্তমানে একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সমিতির পক্ষ থেকে এক বহিরাগত ব্যক্তিকে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মাঠে ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের অধিকাংশ অংশ এখন ফাঁকা। সেখানে কিশোর-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাধুলা করতে দেখা যায়।

স্থানীয় এক তরুণ জানান, “মাঠটা আবার খেলার জন্য ফিরে পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। ভবিষ্যতে যেন এই মাঠে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম না হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

পুলিশের বক্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ বলেন, জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে খেলার মাঠে কোনো ধরনের মেলা বা বাণিজ্যিক আয়োজনের অনুমতি নেই। যথাযথ অনুমোদন না থাকায় কার্যক্রমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে যেন কোনো অস্থায়ী কমিটি বা ব্যক্তি জনস্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button