চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ চাষে নতুন সম্ভাবনা
বছরে দুইবার ফলনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা পলাশ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ | মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে বিদেশি জাতের ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ চাষ। থাইল্যান্ডের এই বিশেষ জাতের আম চাষ করে আলোচনায় এসেছেন সদর উপজেলার আতাহার দক্ষিণ শহর এলাকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শ্রী পলাশ কর্মকার।
বিদেশি আমে দেশীয় সম্ভাবনা
পলাশ কর্মকারের ১০ বিঘা জমির বাগানে এখন দৃষ্টি কাড়ছে লম্বাকৃতির ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’। কলার মতো আকৃতির হওয়ায় এ আমের এমন নামকরণ। তার বাগানে প্রায় ২ হাজার আমগাছ রয়েছে, যেখানে রুপালি, কাটিমন, বারো-ফোর ও গৌড়মতি জাতের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই বিদেশি আম।
বছরে দুইবার ফলনের লক্ষ্য
গত পাঁচ বছর ধরে আম চাষের সঙ্গে যুক্ত পলাশ জানান, থাইল্যান্ডে এই আম বছরে দুইবার ফলন দেয়। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও একই ফলন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
তিনি বলেন,
“কিছু গাছে এখন বড় আমের পাশাপাশি নতুন মুকুলও এসেছে। এতে বছরে দুইবার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যদি এটি সফল হয়, কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন।”
রপ্তানির স্বপ্ন
শুধু স্থানীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই আম রপ্তানির পরিকল্পনা করছেন পলাশ। তার মতে, ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’র বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি বলেন,
“আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে সংরক্ষণের জন্য উন্নত হিমাগার না থাকায় আমরা সমস্যায় পড়ি। সরকারি উদ্যোগে হিমাগার স্থাপন হলে রপ্তানি আরও সহজ হবে।”
অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন অন্যান্য কৃষকরা
পলাশের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বছরে দুইবার ফলন নিশ্চিত করা গেলে এবং রপ্তানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শিল্পে নতুন বিপ্লব ঘটতে পারে।



