বৃহত্তর উত্তরা

আবদুল্লাহপুর-উত্তরখান-৩০০ ফিট সংযোগ সড়ক: সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের এমপির জোরালো দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশদ্বার আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ থেকে উত্তরখান ও খিলক্ষেত হয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট (এক্সপ্রেসওয়ে) সড়কের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের দাবি এখন জাতীয় সংসদে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই দাবি জানান ঢাকা-১৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস. এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সংসদে উত্থাপিত দাবি
সংসদ সদস্য এস. এম জাহাঙ্গীর হোসেন তার বক্তব্যে উত্তর ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, আবদুল্লাহপুর থেকে উত্তরখান ও খিলক্ষেত হয়ে ৩০০ ফিট পর্যন্ত একটি প্রশস্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংযোগটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরখান, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং ঢাকার সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগের নতুন দিগন্ত ও যানজট মুক্তি
বর্তমানে আবদুল্লাহপুর বা আশুলিয়া থেকে পূর্বাচল অভিমুখে যেতে হলে বিমানবন্দর সড়ক ও কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। প্রস্তাবিত এই সংযোগ সড়কটি আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ থেকে শুরু হয়ে উত্তরখান ও খিলক্ষেতের মধ্য দিয়ে সরাসরি ৩০০ ফিট সড়কের সাথে যুক্ত হলে উত্তরা, টঙ্গী ও আশুলিয়া থেকে আসা যানবাহনগুলো বিমানবন্দর সড়ক এড়িয়ে সরাসরি পূর্বাচল ও ডেমরা অভিমুখে যাতায়াত করতে পারবে। এতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার ওপর যানবাহনের চাপ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা আউটার রিং রোড ও এসটিপি পরিকল্পনা
সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ঢাকা আউটার রিং রোড’ প্রকল্পের আওতায় এই সংযোগটি স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ঢাকা কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুযায়ী, এই অংশটি রিং রোডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংযোগ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে এই প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
উত্তরখান ও খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রধান সড়কগুলোর সাথে উন্নত সংযোগ না থাকায় তাদের প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল হতে হয়। এস. এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এই জোরালো দাবির পর স্থানীয়দের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংযোগ সড়কটি চালু হলে পূর্ব ঢাকার সাথে উত্তর ঢাকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে, আবাসন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং অত্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। সংসদে উত্থাপিত এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত কোনো কারিগরি সমীক্ষা বা বাজেট বরাদ্দ দেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button