উত্তরখানে চার ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ: দুজনের কারাদণ্ড


মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানীর উত্তরখানে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারটি ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই ফ্যাক্টরি ম্যানেজারকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের জমির মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উত্তরখানের জামতলা, ব্যাপারীপাড়া ও বৈকাল রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায়। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মকর্তা এবং উত্তরখান থানা-পুলিশ এ অভিযানে সহায়তা করে।
অভিযানকালে হেলাল মার্কেটসংলগ্ন ব্যাপারীপাড়ার আবু হুরাইয়া ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে তিতাসের মূল লাইনের সঙ্গে জিআই পাইপের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই সংযোগ ব্যবহার করে প্রতি ঘণ্টায় চারটি ড্রায়ারের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছিল। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাইপ জব্দ করা হয় এবং ম্যানেজার মো. নয়ন মিয়াকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একইভাবে বৈকাল রোডের ‘এ ম্যাক্স লন্ড্রি’ নামের আরেকটি ফ্যাক্টরিতে বিচ্ছিন্ন আবাসিক রাইজার থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেখানে চারটি ড্রায়ার ও একটি বয়লারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ফ্যাক্টরির সংযোগ ইতোমধ্যে তিনবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযানে পুনরায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি রাইজার জব্দ করা হয়।
জামতলা এলাকার জিনস ওয়াশিং স্টাইলিং প্ল্যান্টেও পরিত্যক্ত রাইজার ব্যবহার করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চারটি ড্রায়ার ও একটি বয়লারের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ঘটনায় ম্যানেজার মো. কামাল হোসেনকে আটক করে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া টিএসএফ ওয়াশিং প্ল্যান্ট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দুটি ড্রায়ার ও একটি বয়লারের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান চলবে।”



