

কমার্শিয়াল পাইলট আর ফাইটার পাইলট — দুজনই আকাশের নায়ক।তারা একে অপরের বিমান সহজে চালাতে পারেন না!
১)একজন কমার্শিয়াল পাইলট যেমন Boeing 777 বা Airbus A330 চালান,তাদের মূল কাজ নিরাপদে শত শত যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছানো।
২)অন্যদিকে ফাইটার পাইলট চালান F-7,Mig 29 ,F-35 যেখানে গতি, যুদ্ধ আর মুহূর্তের সিদ্ধান্তই সবকিছু!
৩)ফাইটার জেটে ৮ থেকে ৯ G পর্যন্ত চাপ পড়ে,
যেখানে কমার্শিয়াল ফ্লাইটে থাকে মাত্র ১ থেকে ২ G।
৪)কমার্শিয়াল পাইলটরা ফলো করেন কঠোর SOP আর চেকলিস্ট,আর ফাইটার পাইলটরা কাজ করেন সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সিদ্ধান্ত নিয়ে।
৫)আরেকটা বড় পার্থক্য —
ফাইটার জেটে থাকে রাডার, মিসাইল, টার্গেটিং সিস্টেম,যা চালাতে লাগে সম্পূর্ণ ভিন্ন মিলিটারি ট্রেনিং।
৬) কমার্শিয়াল পাইলটরা অধিকাংশই প্রচুর অর্থ( ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা),শ্রম আর মেধা দিয়ে লাইসেন্স নেন অন্যদিকে ফাইটার পাইলটরা সরকারীভাব প্রতিযোগিতা মাধ্যমে নিয়োগ পান।তাঁরাও শ্রম আর মেধা দিয়ে ফ্লাইং করেন তবে এর জন্যই তাদের কোন অর্থ খরচ করতে হয় না উপরন্ত ট্রেনিং এর সময় সরকার থেকে ভাতা পান।ট্রেনিং শেষে “ ফ্লাইং অফিসার” হিসাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। আর্মি,নেভি, RAB, পুলিশ থেকেও সরকারীভাবে পাইলট হতে পারেন।স্কলারশিপ নিয়েও অনেকে কমার্শিয়াল পাইলট হন ।
৭) ডিফেন্স পাইলটরা একটি নিদ্রিস্ট সময় চাকুরী করে কমার্শিয়াল পাইলট হতে পারেন অন্যদিকে কমার্শিয়াল পাইলটরা চাইলে ডিফেন্স বা ফাইটার পাইলট হতে পারেন না।
৮) দুজনের ট্রেনিং পদ্বতি আলাদা। একজন ফুয়েল বার্ন করে আয় করেন অন্যদিকে ফাইটার পাইলটরা ফুয়েল বার্ন করে শত্রুকে ঘায়েল করেন।
৯) ফাইটার পাইলটরা চাইলে জীবনের ঝুঁকি থাকলে ইজেক্ট করে বের হতে পারেন কিন্ত আমরা পারি না।আমাদের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে কোন প্যারাসুট থাকে না। যদি বাঁচি তবে সবাইকে নিয়ে বাঁচতে হবে । জীবনের শেষ চেষ্টা করে সবাইকে নিয়ে বাঁচব এটা্ বিশ্বাস করে ফ্লাই করি।
১০) কমার্শিয়াল পাইলটরা যাত্রীদের নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় অন্যদিকে ফাইটার পাইলটরা দেশের সরকারের নির্দেশে মিসাইলের আঘাতে নিখুঁতভাবে শহর এবং বিভিন্ন স্হাপনায় আঘাত করেন।
তাই সত্যটা হলো —
দুজনই দক্ষ, কিন্তু তাদের জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা।
শেষ লাইন:আকাশ এক, কিন্তু দায়িত্ব আলাদা!



