

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়েসী সাড়ে তিন কোটি ভোটার কাকে, কোন দলকে তাদের ভোট দেবে তা নিয়ে তাত্ত্বিক, গবেষক, চিন্তক, কলাম লেখক, টকশোর বক্তা, “সিনিয়র সাংবাদিক” ইউটিউবার সবার চিন্তা, দুঃশ্চিন্তা গবেষণার শেষ নেই।
অধিকাংশেরই ধারণা এরা পারিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে তাদের নতুন, নিজস্ব পছন্দ মত দল, প্রার্থীকে ভোট দেবে, পুরোন দলগুলোর দিকে ফিরে তাকাবে না।
এ বিষয়ে আমার ভিন্নমত স্পষ্ট। আমার হিসাব হচ্ছে, গত ৩০ বছরে বড় হওয়া তরুণ, কিশোররা তাদের পরিবারের বড়দের রাজনৈতিক আলাপ, রজনৈতিক বিশ্বাস, রাজনৈতিক চর্চার মধ্যেই বড় হয়েছে এবং অধিকাংশের অবচেতন মনে পরিবারের রাজনৈতিক পছন্দের প্রভাব গভীরভাবেই পরেছিল। বর্তমান বাস্তবতায় তরুণদের ভোট পারিবারিক প্রভাবের বাইরে যাবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণতর।
তবে এই নির্বাচন যদি জুলাই অভ্যুত্থানের ৬ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হত তবে তরুণ প্রজন্মের অনেক বড় একটি অংশ তাদের পরিবারের প্রভাবের বাইরে গিয়ে ভোটের সিদ্ধান্ত নিত, এতে কোন সংশয় ছিল না।
কিন্তু গত দেড় বছরে নাহিদ, আসিফ, সার্জিস, হাসনাতদের ক্ষমতা লিপ্সা, অর্থলিপ্সা, জামাত ঘনিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, ইউনূস সরকারের অদক্ষতায় অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনকারী, সমর্থনকারী তরুণদের জুলাই নিয়ে সৃষ্ট নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন, আশার বিষয়ে চরম মোহভঙ্গ ঘটেছে। ফলে এরা নিজ নিজ পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবের বলয়ে ফিরে গেছে।
বলবেন, যুক্তিতো দিলেন, প্রমান কই?
বিষয়টা সহজ করে দেই। আগামী ৭দিন আপনি আপনার বাসা-বাড়ি, পথে-ঘাট, কর্মস্থলের পাশ দিয়ে যতগুলো মিছিল যাবে, সমাবেশ হবে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখবেন। এর বাইরেও ফেসবুক, ইউটউবে আপলোড করা মিছিল, সমাবেশে লক্ষ্য রাখবেন।
দেখা, এবং বুঝার চেষ্টা করবেন এইসব মিছিল, মিটিংয়ে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়েসী মানুষের সংখ্যা কেমন।
কোন দলের মিছিল, মিটিংয়ে এই বয়েসী মানুষের সংখ্যা বেশী।
দলগুলো হচ্ছে, বিএনপি, জামাত, চরমোনাই পীর সাহেবের দল, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, মামুনুল হকের দল। আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনে নেই তাদেরটা বাদ।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রভাব যদি সাড়ে তিন কোটি তরুণ ভোটারের মধ্যে থেকে থাকে তবে এনসিপির মিছিল, সমাবেশগুলো হবারকথা সবচেয়ে বড় আর তরুণ বয়েসী মানুষে টইটম্বুর।
বাস্তবতা কি বলে?
এনসিপিতে তরুদের আধিক্য সত্য, কিন্তু সংখ্যার হিসেবে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, পাটোয়ারীদের দল সবার পিছনে।
বিএনপি, জামাত, চরমোনাই এমন কি জাতীয় পার্টির মিছিলে মিটিংয়ে উপস্থিত ১৮ টু ৩০ বয়সী মানুষের উপস্থিতির তুলনায় বহু বহু মাইল পিছনে।
প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটারের অবস্থান নতুন কোনো দিকে হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণতর। এরা যার যার গোয়ালেই অর্থাৎ, হয় বিএনপি, নয় জামাত, নয়তো চরমোনাই অথবা জাপায় ফিরে গেছে।
আবারও বলি, বিশ্বাস না হলে আগামী ৭ দিনের মিছিল, সভা-সমাবেশে তরুণদের উপস্থিতি দেখতে এবং মাপতে থাকুন। তাহলেই টের পাবেন তরুণ ভোটারদের ভোট কোন পথে হাঁটছে।
বি:দ্র: লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।


