বেনাপোলে যাত্রী হয়রানি বন্ধে বন্দর পরিচালকের কঠোর হুঁশিয়ারি


মুক্তমন রিপোর্ট : যাত্রী হয়রানি, প্রতারণা ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের বন্দর পরিচালক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপসচিব শামীম হোসেন। তিনি বলেন, বন্দর এলাকায় যাত্রী হয়রানি ও ছিনতাই কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। “অসাধু চক্রের হাত যত লম্বাই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এখন থেকে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হবে,”—যোগ করেন তিনি।
বন্দর পরিচালকের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণেই বন্দর কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারছে না। তিনি সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে বেনাপোলকে আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।
সভায় আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ভেতরে যাত্রীসেবা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি, সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা টার্মিনালের বাইরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছেন। যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে টার্মিনাল ভবনের একটি অংশ কাস্টমসের স্ক্যানিং কার্যক্রমে এবং বাকি অংশ প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় যাত্রীদের বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে সম্প্রতি টার্মিনালের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার কিছু অংশে বসার ব্যবস্থা করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বন্দর পরিচালকের এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। এ সুযোগে বেনাপোল বাজার থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কিছু অসাধু ব্যক্তি সেবার নামে যাত্রীদের পিছু নিয়ে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে, টার্মিনালে পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রী এসব প্রতারকের প্রলোভনে পড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এমনকি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা কিছু যাত্রী ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে গুরুতর মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন—কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীদের অনীহার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা হয় না। আবার গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্তরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কারণে স্থানীয় সচেতন মহলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এ সভায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে।



