দক্ষিণখানে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

দক্ষিণখানে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ‌্যাং নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাজু মজুমদার (২৮), অন্তর রহমান ওরফে অনু (২২), মো. পারভেজ (২২) এবং বাবু ওরফে সেন্টু (২৫)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।

পুলিশ জানায়, একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে ময়মনসিংহের ভালুকায় অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে জামালপুরের ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজু মজুমদার, অন্তর রহমান ওরফে অনু এবং মো. পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে রাজধানীর দক্ষিণখানের মধ্য আজমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

তাদের দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত করা স্থান অনুযায়ী বাবু ওরফে সেন্টুর বসতঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় তার শয়নকক্ষের খাটের বালিশের নিচে রাখা একটি কালো ব্যাগ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

পরে বাবু ওরফে সেন্টুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি কালো রঙের। এর গায়ে ‘অটো পিস্তল’ ও ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লেখা রয়েছে।

চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ

পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান থানার মুক্তিযোদ্ধা রোড এলাকায় চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে কয়েকজন ব্যক্তি মো. শাহিন (২৮) নামে এক ব্যক্তির পথরোধ করেন।

পুলিশের অভিযোগ, শাহিন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। পরে এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটির তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দলকে কাজ করতে হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি।

অস্ত্র আইনে মামলা

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।