টাঙ্গাইলে সাবেক আনসার সদস্য হত্যা, গ্রেপ্তার ২

বাসাইলে সাবেক আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার
বাসাইলে সাবেক আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাবেক আনসার সদস্য হানিফ খান (৪২) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জাকির ওরফে মদন (৪৩) ও ডায়মন্ড মিয়া (৪০)। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির।

গ্রেপ্তার জাকির ওরফে মদন বাসাইল উপজেলার হাবলা উত্তরপাড়ার মৃত নূর খানের ছেলে এবং ডায়মন্ড মিয়া একই এলাকার বক্কারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামে হানিফ খানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বিলপাড়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।

বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, হানিফ বিলপাড়া গ্রামের একটি স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে আক্রমণ করে। হামলার সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়।

হানিফের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বাসাইল থানা পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর রাতেই ডায়মন্ড মিয়া ও জাকির ওরফে মদনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত হানিফ খান হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার খানের ছেলে। তিনি ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ জানায়, হানিফ খানের বিরুদ্ধে বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর থানায় পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা রয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।