মুক্তমন রিপোর্টার : সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সময় নিজেদের তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশটির ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর সক্ষমতা এতটাই উন্নত ও গোপন ছিল যে শত্রুপক্ষ কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে তাদের উড়োজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড় এবং বিভিন্ন দ্বীপসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি দুর্গম স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।
তাদের দাবি, এসব ইউনিট আকাশপথে শত্রুভাবাপন্ন বিমান ও ড্রোন শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামিও অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও মাতৃভূমি রক্ষায় ইরানের জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে ইরান জানিয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এই সংঘাতের সময় নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য হিসেবে ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই বা বিস্তারিত প্রমাণ অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।