মুক্তমন রিপোর্টার : কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটার শ্রমিক সেজে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিনকে (৩১) হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজন এর আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাট এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় একসঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে কুমিল্লায় গিয়ে তাঁরা ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।
হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ি থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শয়নকক্ষের দরজা খোলা, কাঠের আলমারি ভাঙা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। একই সময় বাড়িতে অবস্থানরত ধানকাটা শ্রমিকদেরও পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন (৩১) এবং ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন আগে চট্টগ্রামে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন ধান কাটার সময় ঠিকমতো কাজ না করা এবং ধান নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আসামিরা ছমিরন খাতুনের ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহম্মদ চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। চান্দিনা থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্তের পর ১০ মে মামলাটি পিবিআই কুমিল্লা জেলা ইউনিটে হস্তান্তর করে।
পিবিআই কুমিল্লার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আমিরুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১২ থেকে ১৫ মে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্ত ও আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।