মুক্তমন রিপোর্টার : নেপাল থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ভারতের বিহারের গণ্ডক নদী ও আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু অচেনা ও অস্বাভাবিক দেখতে মাছ পাওয়া গেছে। এসব মাছের প্রজাতি ও খাদ্য হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা না খাওয়া এবং কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিহার সরকার।
বন্যার পানিতে মাছগুলো বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ও জীবাণুর সংস্পর্শে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের মৎস্য শাখা এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল থেকে আসা বন্যার পানি গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে বিহারের পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। নদীর পাশাপাশি পুকুর, জলাশয় ও নিচু এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
বন্যার স্রোতে বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। এ সময় মাছগুলো নর্দমার পানি, মৃত প্রাণীসহ নানা ধরনের দূষিত বস্তুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকে।
ফলে মাছের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের মতো জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব মাছ দেখতে অস্বাভাবিক কিংবা স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিহার সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, বন্যার পানি থেকে পাওয়া কোনো অপরিচিত বা অস্বাভাবিক দেখতে মাছ আপাতত খাওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাছটির প্রজাতি ও খাদ্য হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সেটিকে রান্না বা বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু পরিচিত কোনো মাছের মতো দেখতে হলেই সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আরও পরামর্শ, বন্যার পানি থেকে ধরা অপরিচিত মাছ বাজারে বিক্রি কিংবা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
সন্দেহজনক মাছ খাওয়ার পর কারও বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মাছের বাহ্যিক চেহারা দেখে তার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই প্রজাতি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়ার পরই মাছ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার পরিচালক সমীর কুমার সিনহার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গণ্ডক নদীতে পাওয়া বেশিরভাগ অস্বাভাবিক মাছ ‘ব্যাগারিয়াস ব্যাগারিয়াস’ (Bagarius bagarius) প্রজাতির বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি গুঞ্চ ক্যাটফিশ নামে পরিচিত এবং স্থানীয়ভাবে ‘গোচিতা’ নামেও ডাকা হয়।
এটি বড় আকারের মিঠাপানির ক্যাটফিশ। ভারত, নেপাল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলের দ্রুতগতির নদীতে এ প্রজাতির মাছ দেখা যায়।
মাংসাশী এই মাছ সাধারণত ছোট মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খেয়ে থাকে। নদীর গভীর এবং প্রবল স্রোতযুক্ত অংশে পাথরের আড়ালে থাকার প্রবণতা রয়েছে এদের।
সমীর কুমার সিনহার মতে, স্থানীয় কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই মাছ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে মাছটি মারা যাওয়ার পর দ্রুত পচন ধরতে পারে। পচে যাওয়া মাছ খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই বন্যার সময় নদী বা জলাশয় থেকে পাওয়া অপরিচিত মাছের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, Bagarius bagarius প্রজাতিকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
নেপালের বন্যার পানি গণ্ডক নদী হয়ে বিহারে প্রবেশের পর অস্বাভাবিক মাছের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো—মাছটির পরিচয় ও খাদ্য হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা খাওয়া বা বাজারজাত না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।