মুক্তমন রিপোর্ট : ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন তেল কোম্পানির ভবনে সৌদি বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে আরামকোর একটি কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর ভবনের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে রয়টার্সকে আরামকোর একটি সূত্র জানিয়েছিল, দাহরানে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভবনটিতে আগুন ধরে যায় বলে সূত্রটি ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুজন জানিয়েছেন।
আরামকোর এই কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কেন্দ্র। এখান থেকে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক তেল উত্তোলন সরঞ্জাম, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং রপ্তানি টার্মিনালের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারি বাহিনীর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দাহরানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। এর ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকায় পড়লেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রাজধানী রিয়াদ ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ বুধবার জানায়, হুথিদের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে রিয়াদে চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসাবশেষের কারণে রাজধানীতে ১৫টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সানায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির ভবনে বিমান হামলা চালায় সৌদি বাহিনী। ওই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি হুথিরা। তবে সৌদি হামলার জবাবে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা।
হুথি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় দাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর এবং রিয়াদের একটি তেল শোধনাগার থাকতে পারে।
Muktomon/TA