মুক্তমন রিপোর্ট : ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেন (কিয়ান) ই রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় পলাতক রয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের অধীনে এটিই প্রথম মামলা বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ৩৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্সের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার রোধ করতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। একপর্যায়ে দারাজের ডেলিভারি কর্মীদের একজন কয়েকটি সিবিডি অয়েল সরবরাহ করেন। পরে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
পরীক্ষায় ওই পণ্যে উচ্চমাত্রার গাঁজার তরল উপাদান টিএইচসি (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল) পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রি হওয়া পণ্যে মাদক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকেলে বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিডি অয়েল ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কারখানার মালিক ও দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বাপ্পীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।