মুক্তমন ডেস্ক : মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মতো আগামী দিনে দেশ গড়ার কাজেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—দেশকে ভালোবাসেন এমন মানুষ সম্মিলিতভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
জাতীয় ঐক্যই দেশ গড়ার শক্তি
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনে নেমেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানেও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে স্বাধীন করা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মানুষ যেমন ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়নি, তেমনি দেশ গড়ার কাজেও ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকেরই দেশের ওপর সমান অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সব ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা
বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়
এর আগে রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাজধানীর মহাখালীর রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।