প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইস্তানবুল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ


মুক্তমন রিপোর্ট: গত ১৯ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে “এশিয়া পোস্ট” নামক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে “মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করেই মনগড়া তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিপন্থী।
ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড দাবি করে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইন, স্বচ্ছতা ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা, জমি ও স্থাপনার মালিকানা বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
প্রতিবেদনে “১০ হাজার শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন” সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বিক্রি করা হয়নি; বরং জমি ও স্থাপনার মালিকানা সাব-কবলা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বৈধভাবে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অনেক ক্রেতা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছেন, আবার কেউ কেউ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের অর্থ জমি ক্রয়, ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরের মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতার কারণে জমিতে বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। ফলে “টাকা কোথায় গেল” — এমন প্রশ্নকে অবান্তর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বা আর্থিক সম্পর্ক নেই এবং এটি একটি বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিনিয়োগকারী বৈধ উপায়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া “টাকা উধাও” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশকে দায়িত্বহীন ও হলুদ সাংবাদিকতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেদনে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডিএম ইমদাদুল হকের ব্যক্তি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
শেষে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রতিবাদলিপি হুবহু প্রকাশ এবং বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।



