অর্থ-বাণিজ্যআইন-অপরাধবৃহত্তর উত্তরা

দুই বছরের আগে ভাড়া বাড়ানো যাবে না, বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি নয়: ডিএনসিসি

মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ নির্দেশিকা অনুযায়ী দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশিকার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি বলেন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন–১৯৯১ এর আলোকে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয় পক্ষকে তা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর তা দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং ভাড়া বাড়ানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে জুন–জুলাই মাস। দুই বছর পর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও মানসম্মত ভাড়ার ভিত্তিতে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাস হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মিলিয়ে মোট বাড়ির সংখ্যা ২০–২৫ লাখের বেশি নয়। ফলে নগরীর একটি বড় অংশই ভাড়াটিয়া। গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন ও ঢাকাকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধার কারণে আবাসন খাতে চাপ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আবাসনে ব্যয় গ্রহণযোগ্য হলেও ঢাকায় অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে আয়ের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়ায় ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জটিলতা ও ধীরগতির কারণে বারবার অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাড়ায় জীবিকা নির্বাহকারী বাড়িওয়ালাদের অধিকারও যথাযথভাবে সুরক্ষিত হয়নি। নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।

নির্দেশিকায় বাড়িওয়ালাকে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নি ও দুর্যোগ নিরাপত্তা, ভাড়ার লিখিত রসিদ প্রদান এবং ভাড়াটিয়ার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াকে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ এবং নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় এক থেকে তিন মাসের বেশি অগ্রিম নেওয়া যাবে না এবং ভাড়া সংক্রান্ত সব শর্ত লিখিত চুক্তিপত্রে উল্লেখ করতে হবে। ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাধান না হলে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো যাবে।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীতে বাড়িভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অসন্তোষ কমবে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয় পক্ষ উপকৃত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button