মুক্তমন ডেস্ক : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ-পূর্ব ডিব্রুগড়-ঢাকা নৌপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল বন্দর থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানলবাহী জাহাজ ডিএলবি পাটকাই (DLB Patkai)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (APCL) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত এই মিথানল ঢাকার পানগাঁও বন্দরে পৌঁছাবে।
১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর অবস্থিত 'ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২' (NW-2) দিয়ে শুরু হয়ে 'ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট' (IBPR)-এর মাধ্যমে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
ব্রিটিশ আমলে ডিব্রুগড় নদী বন্দরটি ছিল পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যা দিয়ে চা, কাঠ ও কয়লা কলকাতায় রফতানি করা হতো।
-
সাত দশকের স্থবিরতা অবসান: ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পের পর নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও রেল যোগাযোগের গুরুত্ব বাড়ায় ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড় ঘাট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
-
বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই: এই পরীক্ষামূলক চালানের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংযুক্ত করতে ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
-
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বগীবিল ও ধুবড়িতে নতুন কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে এই নৌ-চালানটি সম্ভব হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নৌপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়কপথের ওপর চাপ কমিয়ে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পণ্য পরিবহনে এই নৌপথ কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা ভারত ও বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।