মুক্তমন রিপোর্ট : রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববারের (১৮ অক্টোবর) এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও তেল ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনাল ও রুচি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। এ ছাড়া রুশ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজনের একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং প্রযুক্তি সংস্থা ভিকের একটি ডেটা সেন্টারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে।
রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশটির ১৫টি অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও কৃষ্ণসাগর এলাকায় ইউক্রেনের ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেন, কিয়েভের আগ্রাসন প্রতিহত করছে মস্কো। তবে চলমান যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না ইউক্রেন।
এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ায় জোড়া হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ছয় বছরের এক শিশুসহ অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইখাইলো সেমিকিন জানান, হামলায় দুটি আবাসিক ভবন, ১৮টি গাড়ি ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১১ অক্টোবর দাবি করেছিলেন, সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এরপর রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেন হামলা বাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
তিন দিন বিরতির পর গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় আবারও হামলা শুরুর কথা নিশ্চিত করে ইউক্রেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাতেই ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা কোনো চুক্তির উদ্যোগের জবাবে রাশিয়া পারস্পরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং মস্কো এসব উদ্যোগকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, শান্তির পথ তৈরি করতে হলে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে পরিকল্পিত বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তবে শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাশিয়ার বিষয়ে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।
সূত্র : তাস ও রয়টার্স
Muktomon/TA