মুক্তমন রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে গত ছয় মাসে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ছয় মাসে বিপিসিকে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম সমন্বয় না করলে বিপিসির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ আরও বাড়ত।
তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ের কারণেও প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
চার-পাঁচ গুণ বেড়েছে পরিবহন ব্যয়
ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতি টন জ্বালানি পরিবহনে ফ্রেইট চার্জ ৩ থেকে ৪ মার্কিন ডলারের মধ্যে ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় শুধু ফ্রেইট চার্জই প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করা হলে প্রতি মাসে বিপিসিকে গড়ে আরও প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতো বলেও জানান তিনি।
ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি মজুত
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। ফলে ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের আমদানিও অব্যাহত রয়েছে।
তবে দাম সমন্বয়ের পরও ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে বিপিসির প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শুধু ডিজেল আমদানিতে প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
বিপিসি চেয়ারম্যানের হিসাবে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু ডিজেল থেকেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।
২০ টাকা দাম বাড়ালে লোকসান কমবে ১০ হাজার কোটি
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা সমন্বয় করা হলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার।