পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহযোগিতার প্রস্তাব ভারত-চীনের

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারত ও চীনের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারত ও চীনের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

মুক্তমন রিপোর্ট : ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়াকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে চীন ও ভারত। আর দুই দেশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার ক্রেমলিনে এক ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেন, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় যুদ্ধের অবসানে একটি সমাধান খুঁজে পেতে পুতিনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।

পেসকভের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও ভারতের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে ভারত ও চীনের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এর আগেও ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি।

অন্যদিকে চীনও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি-প্রস্তাব নিয়ে কাজ করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে মস্কো ও কিয়েভের কাছে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীকরণের কারণে এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক যোগাযোগ ও বৈঠকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে মস্কো সফর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ। তবে এসব তৎপরতার পরও যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা।

এদিকে চলতি মাসে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে পুতিনের সমর্থিত ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোনোর বার্তা দিতে পারলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুতিন কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুদ্ধের প্রকৃত সমাধান নির্ভর করবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর।

Muktomon/TA