ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত পার হতেই রুশ ড্রোন হামলা

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের ইঞ্জিন
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের ইঞ্জিন

মুক্তমন রিপোর্ট : যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেন সীমান্ত অতিক্রম করার পরপরই ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের ইয়াগোদিন রেলওয়ে স্টেশনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় কেউ হতাহত হননি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে ফেরার পথে বরিস জনসন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে করে ফিরছিলেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উকরজালিজনিৎসিয়া দাবি করেছে, ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের বহনকারী ট্রেন।

পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ইউক্রেনের একটি ট্রেনের লোকোমোটিভে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম ইউক্রেনে রাশিয়া মাঝেমধ্যে হামলা চালালেও পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এ ধরনের হামলা বিরল।

হামলার বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ঘটনাটি ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভেতরে ঘটেছে। রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং তা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

হামলার পর বিষয়টিকে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান মিত্র পোল্যান্ড। এ নিয়ে দেশটির সরকার জরুরি বৈঠক করেছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অচল, বিশৃঙ্খল বা ধ্বংস করার রুশ পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই তাদের কাছে তথ্য ছিল। এমন হামলার প্রভাব পোল্যান্ডের ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে মলদোভা সীমান্তসংলগ্ন ইউক্রেনের একটি এলাকায় রুশ হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল কিয়েভ।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রাশিয়ার হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে দেশটির প্রতি পশ্চিমা সমর্থন কমাতে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা।

Muktomon/TA