গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন, নতুন পরিকল্পনা

মাহ্দী আমিনের বক্তব্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১৫০ গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা
মাহ্দী আমিনের বক্তব্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১৫০ গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা

মুক্তমন রিপোর্ট : গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাপেক্স বডির নেতাদের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক ওই সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মাহ্দী আমিন জানান, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আরও ১৫০টি কূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গ্যাস সরবরাহে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সচল দুটি এফএসআরইউয়ের পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্ভব হলে তৃতীয় একটি টার্মিনাল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

এ ছাড়া স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের শিল্প ও ব্যবসার বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন। সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের সহযোগিতায় সরকার নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

Muktomon/TA