স্পোর্টস ডেস্ক : ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এতে স্বাগতিকদের চেয়ে ২২৮ রানের লিড পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই এখন পর্যন্ত দারুণ লড়াই করছে বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিনের লাঞ্চের পর বাংলাদেশের ইনিংস থামান জশ হ্যাজেলউড। শেষ ব্যাটার হিসেবে এবাদত হোসেন ৭ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে সফল অস্ট্রেলীয় বোলার হ্যাজেলউড—৬ উইকেট নিয়ে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১৯৭ বলে ১০১ রান করেন এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে এটি ছিল ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। মুমিনুল হক করেন ৪৯ রান। এরপর ইনিংসের শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ এবং তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৪ রানে ভর করে চারশ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই হাসান মাহমুদকে ১৪ রানে ফেরান হ্যাজেলউড। এরপর ১৭ রান করা তাইজুল ইসলামকেও ফিরিয়ে অস্ট্রেলীয় পেসার নিজের ২৯৯তম টেস্ট উইকেট পূর্ণ করেন।
এরপর মিরাজ ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা বাংলাদেশের লিড আরও বড় করেন। লাঞ্চের পর দলীয় সংগ্রহে এক রান যোগ হতেই মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের ৩০০তম উইকেট পান হ্যাজেলউড। মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচটি চারে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশের হয়ে হাসান একাই নিয়েছিলেন ছয় উইকেট। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পাওয়ায় ডারউইন টেস্টে এখন চালকের আসনে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ—আর বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন এই লিডকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা।