মুক্তমন রিপোর্ট : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে প্রথম দিনেই চালকের আসনে উঠে বসেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর দিনের শেষ ভাগে এক উইকেট হারিয়ে প্রায় অর্ধেক রান তুলে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
টানা তৃতীয় মৌসুমে নিজেদের মাঠে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে ১০৪ এবং ২০২৫-২৬ অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অজিরা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা গেল।
বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে সকালের শিশিরভেজা উইকেটে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণের সামনে বিপাকে পড়ে স্বাগতিক ব্যাটাররা।
মাত্র ১৯৮ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। দিনের শেষদিকে উইকেট কিছুটা ব্যাটিংবান্ধব হয়ে উঠলে বাংলাদেশও রান তুলতে শুরু করে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ। যদিও ইনিংসজুড়ে একাধিকবার জীবন পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে ক্যাচ ফসকে যাওয়ার পর ৭ রানে এবাদত হোসেনের বলে ব্যাটের কিনারা ঘেঁষে যাওয়া ক্যাচও প্রযুক্তির সহায়তায় টিকে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭১ রানের ইনিংস খেলেন স্মিথ।
সকালের কন্ডিশনে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরেও প্রশ্ন উঠেছে। স্মিথের মতে, আগের দিন পর্যন্ত উইকেট শক্ত মনে হলেও সকালে শিশিরের কারণে সেটি আঠালো হয়ে যায়।
তিনি বলেন, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেট শক্ত হয়েছে এবং ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ হয়েছে। তবে শুক্রবার সকালেও শিশির থাকলে আবারও ব্যাটিং কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের কঠিন পরিস্থিতির সবচেয়ে মজার উদাহরণ দিয়েছেন খোদ স্মিথ। ফক্স ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইনিংসের প্রথম ৩০ বল খেলার সময় প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন কীভাবে ব্যাট ধরতে হয়!
স্মিথ জানান, অস্বাভাবিকভাবে দুই হাত খুব কাছাকাছি রেখে ব্যাট ধরেছিলেন তিনি। ফলে শট খেলতে গিয়ে বল বারবার ব্যাটের কানায় লাগছিল। পরে নিজের গ্রিপের ভুল বুঝতে পেরে দুই হাতের দূরত্ব ঠিক করেন। এরপরই ব্যাটের ফেস সোজা হয়ে আসে এবং নিজের স্বাভাবিক পজিশনে ফিরতে পারেন।
৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার আরও স্বীকার করেন, ক্রিকেটে এমন দিন মাঝেমধ্যে আসে, যখন হঠাৎ করেই নিজের টেকনিকের বিষয়গুলোও ভুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে প্রথম দিনেই এক উইকেট হারিয়ে প্রায় অর্ধেক রান তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে শুক্রবার সকালের উইকেটই ম্যাচের গতিপথ অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে। শিশিরের প্রভাব থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা আবারও বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। আর উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ থাকলে বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার সুযোগ পাবে।