এআই ও ডিজিটাল গভর্নেন্সে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

এআই ও ডিজিটাল গভর্নেন্সে চীনের সহযোগিতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
এআই ও ডিজিটাল গভর্নেন্সে চীনের সহযোগিতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

মুক্তমন রিপোর্ট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজিটাল গভর্নেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং যৌথ নীতি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘জয়েন্ট ট্রেইনিং প্রোগ্রাম ২০২৬ অন দ্য কমপ্যারেটিভ ফোরাম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআইআইএসএস ও চীনের ফুডান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সেতু, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পাঞ্চল ও ডিজিটাল সংযোগসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা, কৃষি ও জনসেবা প্রদানে এআই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ঝাং পিং বিআইআইএসএসের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথ সুগম করবে।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, এই ফোরাম বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাডেমিক সংলাপ ও নীতি-বিষয়ক মতবিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

সমাপনী অধিবেশনে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় ৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা।

প্রশিক্ষণে সুশাসনের আধুনিকায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল শাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, শিল্পায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ফুডান ইউনিভার্সিটি ও বিআইআইএসএসের ফ্যাকাল্টিবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।