মুক্তমন রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক বলয়কে ঘিরে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটরা। তবে ক্ষমতায় ফিরলে শুরুতেই ট্রাম্পকে অভিশংসনের পথে না গিয়ে আগে বিভিন্ন কোম্পানি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্তে গুরুত্ব দিতে চান তারা।
সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাট নেতারা সম্ভাব্য শুনানি, সমন জারি এবং নথি তলবের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা বেশি কার্যকর হতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সহযোগীর ভাষ্য, শুরুতেই ট্রাম্পকে অভিশংসনের চেষ্টা করতে চান না তারা। বরং তদন্তের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনার ভিত্তি তৈরি করতে চান।
ডেমোক্র্যাটদের এই কৌশলের পেছনে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অভিজ্ঞতাও কাজ করছে। সে সময় দুইবার হাউসে অভিশংসিত হলেও সিনেটে উভয়বারই খালাস পান ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের অনেকের মতে, সরাসরি অভিশংসন প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পকে নিজেকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি চুক্তি, করপোরেট দাতাদের ভূমিকা, হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবিত বলরুম নির্মাণের অর্থায়ন এবং কথিত ‘পে-টু-প্লে’ ব্যবস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সম্পর্কও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
আলোচনায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, অ্যালফাবেট, প্যালান্টির টেকনোলজিজ, ব্ল্যাকস্টোন, ব্ল্যাকরক এবং ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্য তদন্তের ভিত্তি তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। বিভিন্ন কোম্পানি, ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নথি ও তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স, ইউটিউব ও এর মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী জিও গ্রুপ এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেইলাস ওয়ার্ল্ডওয়াইড সলিউশন্সের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাণিজ্যকারী প্রতিষ্ঠান ভিটল ও ট্রাফিগুরার কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে। তবে দলের নেতারা মনে করছেন, আগাম পাঠানো এসব চিঠি ভবিষ্যতে হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে সমনের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত তদন্তের ভিত্তি তৈরি করবে।
ডেমোক্র্যাটরা আপাতত অভিশংসনকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। তবে তদন্তে যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, যা অভিশংসনযোগ্য অপরাধের মানদণ্ড পূরণ করে, তাহলে সেই পথও খোলা থাকবে।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসও আগে বলেছেন, হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে দলের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকে।
ফলে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হাউসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যায়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত কতটা বিস্তৃত হবে এবং শেষ পর্যন্ত তা অভিশংসন প্রক্রিয়ায় গড়াবে কি না।