চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি

জামালপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন
জামালপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

মুক্তমন রিপোর্ট: সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার চার্জশিট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা কয়েকজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ এনে তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।

শনিবার দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাবের সামনে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি নিহত নাদিমের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।

জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংবাদিক কাফি পারভেজ, বজলুর রহমান, চ্যানেল ২৪-এর সমকাল স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার হোসেন মিন্টু, সৈয়দ শওকত জামান, নিহত নাদিমের বাবা আবদুল করিম, স্ত্রী মনিরা বেগম ও সাংবাদিক জাকারিয়া জাহাঙ্গীর।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ১৫ জুন বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে হামলা করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলেও তদন্ত ও চার্জশিট প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা কয়েকজনকে একাধিকবার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে তদন্ত শেষ করা হলে নাদিমের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি অবিচার হবে। তাই মামলাটি পুনঃতদন্ত বা তদন্ত প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ সময় মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু, তার ছেলে রিফাতসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান বক্তারা।

নাদিমের বাবা ও স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন উল্লেখ করে বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকরা বলেন, নাদিম হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারের সঙ্গেও জড়িত।