মুক্তমন রিপোর্টার : অবসর কাটাতে নেপাল গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর দেশে ফেরার পথ। ফলে সঙ্গীদের নিয়ে নেপালের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ঘান্দ্রুক গ্রামে অবস্থান করছেন এই গায়ক।
গত ২০ আগস্ট নেপালে যান তাসরিফ খান। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। পরিকল্পনা ছিল বুধবার সেখান থেকে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফেরার। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা।
নেপালে আটকে পড়ার পরিস্থিতি এবং দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নিয়ে গণমাধ্যমকে তাসরিফ বলেন, ‘দুই দিন ধরে নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকে আছি। সবাই সুস্থ থাকলেও কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না।’
নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত ঘান্দ্রুক একটি পরিচিত পর্যটন গ্রাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকায় বর্তমানে দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থায়।
তাসরিফ জানান, তাঁরা যে এলাকায় অবস্থান করছেন সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ চোখে পড়েনি। তবে মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ধসে যাওয়ার পাশাপাশি সেতুও ভেঙে পড়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন তাসরিফ ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, তার কেন্দ্রস্থল থেকে ঘান্দ্রুকের সরলরেখার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার। সরাসরি ওই বিপর্যয়ের এলাকায় না থাকলেও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি এবং নিজেদের ফেরার পথ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাসরিফ।
ফেরার দিনই তাঁদের যাত্রাপথ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন গাইড। তাসরিফ বলেন, ‘বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছাতাম। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তখন গাইড এসে বলেন, আজ আর যাওয়া যাবে না, বড় ঝুঁকি আছে।’
পরে সড়কের ক্ষয়ক্ষতির খবর জানার পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তাঁরা। তাসরিফের ভাষায়, ‘আমরা যে পথ দিয়ে ফিরতাম, সেটির বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। সময়মতো বের হলে হয়তো আমরাও বিপদের মধ্যে পড়তাম। দেরি হওয়াটাই আমাদের রক্ষা করেছে।’
বর্তমানে তাসরিফদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাসরিফ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকেই থাকতে হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পর্যটকও আটকা পড়েছেন।
তবে সড়কপথ পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে বিকল্প হিসেবে নদীর পাশ দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্র্যাকিং করে বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে ওই পথও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তাসরিফ।
এ অবস্থায় আবহাওয়া ও সড়ক পরিস্থিতি অনুকূলে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। নিরাপদে দেশে ফেরাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।