বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও কৃষি কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সরকার বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও চাষিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পর কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়মিত তদারকি করছেন। ফলে এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ফলের উৎপাদন বেশি হয়, সেখানে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রায় দুই হাজারের বেশি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ নেন এবং মেলায় বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের স্টল পরিদর্শন করেন।