মার্কিন তেল চুক্তির পরও সার্বভৌমত্ব থাকবে: ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে বক্তব্য দিচ্ছেন
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে বক্তব্য দিচ্ছেন

মুক্তমন রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তি হলেও ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের অধিকার ২৫ বছরের জন্য হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।

রদ্রিগেজ জানান, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি মূলধন, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সেই খাত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন রদ্রিগেজ।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তেল বিক্রির অর্থের ভাগাভাগি। রদ্রিগেজের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ও বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেল থেকে ১৯ ডলার করে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাজস্বে যাবে।

তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এই ব্যবস্থা থেকে ভেনেজুয়েলার বছরে সর্বোচ্চ ২০৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে প্রকৃত আয় তেলের উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ওপর ওয়াশিংটন আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি ভেনেজুয়েলার দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও তেল উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনসংক্রান্ত নতুন চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মার্কিন কোম্পানি শেভরনও রয়েছে।

জানুয়ারি থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় এবং পরে দেশটির নেতৃত্ব ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের হাতে দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই কারাকাসকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নেওয়ার চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

নতুন তেল চুক্তিকে তাই শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে নয়, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রদ্রিগেজ অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং সার্বভৌমত্ব ভেনেজুয়েলার হাতেই থাকবে।