মিসাওয়া ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা হলে জাপান দায়ী: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিসাওয়া বিমানঘাঁটি ও ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বক্তব্য
মিসাওয়া বিমানঘাঁটি ও ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বক্তব্য

মুক্তমন রিপোর্টার : জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালালে এর দায় জাপান সরকারকেও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাপানের জনগণকে তাদের সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে এবং এসব যুদ্ধবিমান ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে—এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আরাগচি এ মন্তব্য করেন।

ফার্স নিউজে প্রকাশিত আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের বিষয়ে টোকিওর দায় রয়েছে।

আরাগচি বলেন, জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হলে দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরাসরি জাপানি বাহিনী কোনো অভিযানে অংশ না নিলেও তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

জাপানের জনগণের উদ্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে জাপানের সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া উচিত।

তার বক্তব্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে জাপানের ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা পরিচালিত হলে এর রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায় কতটা জাপানের ওপর বর্তাবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আরাগচি।

জাপানের উত্তরাঞ্চলের আওমোরি প্রিফেকচারে অবস্থিত মিসাওয়া বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সামরিক স্থাপনা। ঘাঁটিটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

ইরানে হামলার জন্য মিসাওয়া থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর জাপানের ভূখণ্ড কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান এবং দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা জোট রয়েছে। জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা, বিমান ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এসব ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো সামরিক অভিযানে জাপানের ভূখণ্ডে থাকা এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হলে টোকিওর ভূমিকা ও দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আরাগচির মন্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ইরান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মিত্রদের ভূমিকারও সমালোচনা করে আসছে। জাপানকে ঘিরে আরাগচির সর্বশেষ মন্তব্যও সেই কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।