সারাদেশ

রোড পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন ছাড়াই চলছিল হবিগঞ্জী বাস! জনমনে ক্ষোভ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ–সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে চলাচলকারী “হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস” পরিবহনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রুট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, এই পরিবহনের বেশিরভাগ বাসেরই মৌলভীবাজার হয়ে চলাচলের বৈধ রুট পারমিট নেই। এ ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলাচলরত অনেক বাসের বৈধ রুট পারমিট নেই, ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং ট্যাক্স টোকেনও নবায়ন করা হয়নি। আবার কিছু বাসের পারমিট থাকলেও তা অন্য রুটের জন্য অনুমোদিত। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রুট থেকে বাতিল বা অন্যত্র চলাচলের অনুমোদনপ্রাপ্ত গাড়িগুলো এনে অবৈধভাবে “হবিগঞ্জ–সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার” রুটে চালানো হচ্ছিল।

এই অবৈধ চলাচলের প্রতিবাদে গত ১০ মে মৌলভীবাজার জেলা পরিবহন শ্রমিক–মালিক ঐক্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির নির্দেশে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক সড়কে এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রেখে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সড়কে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। এরপর মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আটকে থাকা গাড়িগুলোর কাগজপত্র বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মাধ্যমে যাচাই করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। যাচাইয়ে দেখা যায়, অনেক গাড়ির বৈধ ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট নেই। কিছু গাড়ির পারমিট আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটের জন্য ইস্যু করা।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—এতদিন ধরে এসব গাড়ি কীভাবে প্রকাশ্যে চলাচল করেছে? নিয়মিত চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কেন এসব গাড়ি ধরা পড়েনি? কারা তাদেরকে “ম্যানেজ” করেছে? কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কি বছরের পর বছর এসব অবৈধ কার্যক্রম চলেছে?

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু অবৈধ চলাচলই নয়, এসব অনিরাপদ গাড়ির কারণে যাত্রী নিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে বৈধ পরিবহন ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অবৈধ ও অনিরাপদ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিয়েছে, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button