মুক্তমন রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ (আইসিবিএম) বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদর্শিত একটি প্রতিরক্ষা শিল্প জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিমের সঙ্গে তাঁর মেয়েকেও জাদুঘর পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়ার এক দিন পরই এই পরিদর্শন করেন উত্তর কোরীয় নেতা।
আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার নবনির্মিত ‘ডিফেন্স রেভল্যুশন মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সোল জু ও মেয়ে জু আয়ে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমের শাসনামলে তৈরি ড্রোন থেকে শুরু করে হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ বলেন, হোয়াসং-২০ ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারের সামনে রাখা প্রদর্শনীতে একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নকশা ও একটি বিশ্বমানচিত্র দেখানো হয়েছে। ওই মানচিত্রে ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্ভাব্য পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শিনের মতে, উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান ও সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আগে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির অংশ করে রাখতে চাইছেন কিম।
কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, অস্থায়ী অস্ত্র প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোকে স্থায়ী জাদুঘরে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে কিম উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী অর্জন হিসেবে তুলে ধরছেন।
সূত্র : রয়টার্স
Muktomon/TA