মুক্তমন রিপোর্ট : চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০টি বসতঘর, দোকান ও গুদাম পুড়ে গেছে। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বেশ কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানোর আশঙ্কায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে নগরের ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের নোমান কলেজ রোডের ক্ষেতচর বাস্তুহারা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে লামারবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি অনেকে। মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে যায় তাদের সারা জীবনের সঞ্চয়।
ঘটনার সময় মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা তানজিমা নওশীন রিয়া মনি। তিনি বলেন, মেয়ের ঘুম ভাঙার পর চারদিকে আগুন দেখতে পান। দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে এলেও দরজায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সৈয়দুর রহমান জানান, তাঁর কুলিং কর্নার, মুদিদোকান, বসতঘর ও মালামালের গুদাম পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইলেকট্রনিকস মিস্ত্রি মো. নয়ন (৪৩) বলেন, আগুন লাগার সময় ঘরে কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে এসে দেখেন, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সাতটি কক্ষ, একটি গুদাম ও চারটি দোকান পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
লামারবাজার ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইনস্পেক্টর মো. মিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বিস্তারিত তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ শেষে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
Muktomon/TA