মুক্তমন ডেস্ক : ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।”
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্র সবার, অধিকারও সবার
তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রের ওপর সমান অধিকার রয়েছে। দেশের প্রতি সবার যেমন অধিকার আছে, তেমনি দায়িত্বও রয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়।”
মুক্তিযুদ্ধ থেকে গণ-অভ্যুত্থান: ঐক্যের উদাহরণ
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ সম্মিলিতভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সেদিনও বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে একে অপরকে বিবেচনা করে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ আয়োজন আনন্দ ও মিলনমেলার উপলক্ষ, যেখানে সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান।
বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর আহ্বান, সব ধর্মের মানুষ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখেন।