শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত চান শফিকুর রহমান

ভিডিও বার্তায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ভিডিও বার্তায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মুক্তমন রিপোর্ট : পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতিও তত বাড়বে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। এসব আন্দোলনের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিক হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, মঙ্গলবার গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন।

শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বেতনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্পও বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে শিল্প খাতের ক্ষতি বাড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা পরিস্থিতির অপব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। শিল্প টিকে থাকলেই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে।

কারখানার মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করলে তাঁদের দাবি ও সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন শফিকুর রহমান। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

Muktomon/TA