মুক্তমন রিপোর্ট : বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান। বৈঠকে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয় উঠে আসে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহৎ ও মেগা প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিআরসিসির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সিআরসিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে ও সামুদ্রিক অবকাঠামো খাতে প্রতিষ্ঠানটির চলমান সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিআরসিসির বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী।
বৈঠকে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল (মংলা পোর্ট ইকোনমিক পার্ক), কৌশলগত মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ, রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পিপিপির আওতায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশের বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানে একমত হন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
Muktomon/TA