মুক্তমন রিপোর্ট : রংপুর নগরীতে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত আট সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘেরাও করে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর কলেজ রোডের খামার মোড় থেকে লালবাগ রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। এ সময় কয়েকজন দখলদার অভিযান ব্যাহত করার চেষ্টা করেন।
খামার মোড়ে অভিযানের তথ্য ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকেরা বাধার মুখে পড়েন। এ সময় ঢাকা পোস্টের ফরহাদুজ্জামান ফারুক, সময় টেলিভিশনের রেদওয়ান হিমেল, খবরের কাগজের সেলিম সরকার, আজকের পত্রিকার নূর মোহাম্মদ, আগামীর সময়ের লিজেন আহমেদ প্রান্ত, বার্তা২৪ ডটকমের নভেল চৌধুরী, আরএনবি নিউজের মাহজাবিন মৌ এবং আমাদের প্রতিদিনের শরিফুল ইসলাম সুমনের ওপর কয়েকজন চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের আটকে রেখে হেনস্তা ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের এভাবে হেনস্তা ও হামলার চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযানের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানকেও বিষয়টি জানান সাংবাদিকেরা। তবে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে বাধা উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
অভিযান সম্পর্কে রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ফুটপাতে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে গত এক মাস ধরে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। যেসব সড়ক ও ফুটপাত এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের বিভিন্ন নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, খাটাল কিংবা পসরা বসানোর সুযোগ নেই। জনদুর্ভোগ কমানো এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন এ ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।
Muktomon/TA