মুক্তমন রিপোর্ট : সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এ ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে দাবি করে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সৌদি আরব দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের জীবন রক্ষায় সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কী কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই নেতা।
সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে রতন বলেন, অনেক নারী কর্মী নির্যাতিত হচ্ছেন এবং কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরছেন। এসব ঘটনার জবাব সৌদি আরবকে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. ফজলুর রহমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বার্থে কাজ করছেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে অর্থ পাঠিয়ে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক মানুষ জমিজমা বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে অনেকে নির্যাতনের শিকার হন, আবার দেশে ফিরেও প্রতিকার পান না। এসব বিষয়ে সরকারের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।
সমাবেশ থেকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কারাবন্দি ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে মুক্ত করতে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানায় সিপিবি।