মুক্তমন রিপোর্ট : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা জোরদারে ইরান উৎসাহ দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ অবস্থান জানায় ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের হুথিদের সামরিক অভিযানে ইরানের ভূমিকা রয়েছে—এমন যেকোনো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের স্বার্থ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাজ করে। ইরান ও তার মিত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের কাছে এ ধরনের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনো পক্ষের স্বার্থে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরান হুথিদের হামলা জোরদারে উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ নাকচ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, শত্রুতা বন্ধে সহায়তা করতে ইরান তার সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত রয়েছে। হুথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্র জানান, দক্ষিণাঞ্চল ও রিয়াদ এলাকায় তিনটি ড্রোন এবং লোহিত সাগরের ওপর দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়ানবু শহরের ওপর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু শহরে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ রয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের কারণে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনের সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের বিমানবন্দর এলাকায় শুক্রবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা কার্যালয়। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি একই ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। এতে কেউ নিহত হয়নি বলে জানানো হয়।
সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে হুথিরা জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রের গুদাম।
ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এডেন থেকে কায়রোগামী ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। বিমানটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্র দুটি বিমান ও রানওয়ের কাছাকাছি আঘাত হানে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগের দিন এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এ হামলার নিন্দা জানান।
ইয়েমেনের এক সরকারি মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত ইয়েমেনি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনীর কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, সেখানে সৌদি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু ছিল।
সূত্র : এনডিটিভি
Muktomon/TA