মুক্তমন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি বর্তমানে ক্যাটাগরি-২ হারিকেনের সমতুল্য শক্তি অর্জন করেছে এবং আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তি সঞ্চয় করে ক্যাটাগরি-৪ হারিকেনের সমতুল্য অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
মঙ্গলবার রাত ১টার আপডেটে দেখা যায়, মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার এবং দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরের অনুকূল পরিবেশের কারণে অর্ণবের দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ঘণ্টায় ২১০ থেকে ২১৫ কিলোমিটার বেগের স্থায়ী বাতাস সৃষ্টি করতে পারে। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার গতি এ সময় ২৫৫ থেকে ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গভীর সাগরে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে অবস্থানকারী মাছধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমমুখী অগ্রসর হওয়ার পর উত্তর অথবা উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে বাঁক নিতে পারে। এরপর ২৮ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিলেও বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। তবুও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ২৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের ওপর একটি বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে ২৭/২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেও বৃষ্টি হতে পারে, তবে তা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের গতিপথ, শক্তিমত্তা এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।