মুক্তমন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, বর্তমানে এটি পূর্ব-মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে প্রথমে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ এবং পরে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে।
সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কেন্দ্র ছিল আনুমানিক ১৫.৪° থেকে ১৫.৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৮° থেকে ৮৮.৯° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এটি গত কয়েক ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘অর্ণব’ আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনম অঞ্চলের কাছাকাছি আঘাত হানতে পারে। উপকূল অতিক্রমের সময় এর স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ২৬ অক্টোবর রাতের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং ২৭ অক্টোবর অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ কারণে অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে ব্যাপক হারে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের উদ্ধারকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আপাতত সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা কম বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃত মেঘমালা ও আর্দ্রতার প্রভাবে দেশের অনেক অঞ্চলে বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সমুদ্রে না যেতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতায় পরিবর্তন হলে পরবর্তী বুলেটিনে নতুন তথ্য জানানো হবে।
মুক্তমন অনলাইন পাঠকদের জন্য ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সর্বশেষ অবস্থান, বাতাসের গতিবেগ, সম্ভাব্য গতিপথ এবং বাংলাদেশের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পর্যায়ক্রমে আপডেট প্রকাশ করা হবে।