ক্রীড়া প্রতিবেদক : এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের অভিযান শুরু হচ্ছে আজ। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মারিয়া মান্ডাদের। শক্তিমত্তা ও ফিফা র্যাঙ্কিং—দুই দিক থেকেই প্রতিপক্ষ এগিয়ে থাকলেও নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ১১ নম্বরে। বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭। র্যাঙ্কিংয়ের এই বিশাল ব্যবধানই ম্যাচটির কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। লক্ষ্য ভালো ফুটবল উপহার দেওয়া এবং এই ম্যাচ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
ম্যাচপূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারও বাস্তবতার কথাই বলেছেন। তাঁর মতে, কঠিন গ্রুপে পড়লেও দলের জন্য এটি শেখার বড় সুযোগ।
বাটলার বলেন, ‘আমরা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছি। কারণ আমাদের গ্রুপে এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দুটি দল উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে। মিয়ানমারের র্যাংকিংও আমাদের চেয়ে ওপরে। তাই প্রতিযোগিতাটি যে অত্যন্ত কঠিন হবে, তা নিয়ে আমাদের কোনো ভুল ধারণা নেই। তবে আমরা খেলাটি উপভোগ করতেই এসেছি।’
তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বাংলাদেশের কোচ। তিনি বলেন, ‘দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণ রয়েছে। ফলাফল যাই হোক না কেন, তরুণদের খেলার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি এই ম্যাচ থেকে তারা অনেক কিছু শিখবে এবং নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাবে।’
এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। তারা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন এবং একবার রানার্সআপ হয়েছে। এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের জন্য চাপের চেয়ে শেখার সুযোগটাই বড়।
তাই বাংলাদেশের মেয়েদের মন্ত্রও অনেকটা পরিষ্কার—হারানোর কিছু নেই। নির্ভার থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে।
গ্রুপ পর্বে উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের সামনে আরও দুটি কঠিন ম্যাচ। ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ মিয়ানমার।
শক্তিশালী তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচগুলো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য বড় পরীক্ষা হলেও একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। প্রথম পরীক্ষাটিই আজ—প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া।